হাওজা নিউজ এজেন্সি: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন নাসের রাফিয়ি এ প্রসঙ্গে ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ সঞ্চয় বা সংরক্ষণ করতে পারে না, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। অর্থাৎ, সে অপচয় করে, সম্পদ নষ্ট করে এবং তা যথাযথভাবে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
তিনি আরও বলেন, এক ব্যক্তি ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.)-এর কাছে এসে বলল,
“হে ইমাম! আমার সম্পদ ছিল, কিন্তু সব হারিয়ে ফেলেছি। আপনি দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে আবার সম্পদ দান করেন।”
ইমাম (আ.) উত্তরে বললেন, কয়েক শ্রেণির মানুষের দোয়া কবুল হয় না।
প্রথমত, যে ব্যক্তি অপচয় করে নিজের সম্পদ নষ্ট করে ফেলে, তারপর আবার আল্লাহর কাছে সম্পদ প্রার্থনা করে। তখন আল্লাহ বলেন,
“আমি কি তোমাকে অপচয় করতে নিষেধ করিনি? 'অপচয় করো না'—এই নির্দেশ কি তোমাকে দিইনি? তাহলে কেন তা মানলে না?”
দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি কোনো কাজ বা উপার্জনের চেষ্টা না করে শুধু আল্লাহর কাছে রিজিক প্রার্থনা করে।
তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি কাউকে ঋণ দেয়, কিন্তু তার কোনো লিখিত দলিল বা প্রমাণ রাখে না। পরে ঋণগ্রহীতা ঋণ অস্বীকার করলে তার হাতে কোনো প্রমাণ থাকে না। অথচ দলিল থাকার পরও অনেক সময় পাওনা আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে; সেখানে দলিলই না থাকলে তা আরও কঠিন।
শিক্ষণীয় বিষয়
এই হাদিসের শিক্ষা হলো, দোয়ার পাশাপাশি সঠিক কর্মপন্থা গ্রহণও অপরিহার্য। ইসলাম মানুষকে অপচয় থেকে বিরত থাকতে, জীবিকা অর্জনে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে এবং আর্থিক লেনদেনে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে শিক্ষা দেয়। দোয়া তখনই প্রকৃত অর্থে ফলপ্রসূ হয়, যখন মানুষ আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি নিজের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করে।
আপনার কমেন্ট